রংপুরে রাসুলুল্লাহ সা: কে নিয়ে কটুক্তির জের, ২০ গ্রাম মুসলিম পুরুষশূন্য

রংপুরে রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কটূক্তির ঘটনার জের ধরে সদর উপজেলার ঠাকুরটারি এলাকার আশপাশের ২০ গ্রামের মুসলমান পুরুষরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন পুলিশের ভয়ে।

Hindu man abused on Prophet Mohammed

বি কে টিটু নামের এক উগ্রপন্থী হিন্দু যুবকের ফেসবুকে রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এবং পবিত্র কাবা শরীফ সম্পর্কে ধর্ম অবমাননকার স্ট্যাটাসের জের ধরে শুক্রবার মুসল্লিদের বিক্ষোভে পুলিশের গুলি টিয়ারশেলে ৬জন(৪ জনের হদীস পাওয়া যায়নি এখনো) নিহত এবং ১১ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে।

কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ বাবুল হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা করেছে। এ পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি আটক করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

গঙ্গাচড়া থানার অফিসার ইনচার্জ জিন্নাত আলী জানান, এ ঘটনায় আমার থানার এসআই রেজাউল আলম তিন হাজার অজ্ঞাত সংখ্যক লোককে আসামি করে মামলা (নং-১১ তারিখ ১০-১১-১৭) করেছেন। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

রংপুর সহকারী পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সাইফুর রহমান সাইফ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় গঙ্গাচড়া ও কোতয়ালী থানায় পুলিশ দুটি মামলা করেছে। এখন পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেউ নির্দোষ থাকলে তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে না।

বিভিন্ন গ্রাম থেকে গ্রেফতারকৃত ৫৮ জনের মধ্যে বদরগঞ্জ উপজেলা নায়েবে আমীর বালুয়াভাটার আব্দুল মান্নান, গোপালপুর ইউপি জামায়াত আমীর জয়নাল আবেদীন, সেক্রেটারী রুহুল আমীন, শলেয়াশাহ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, শলেয়াশাহ আওয়ামী লীগ নেতা কাজলের নামও জানা গেছে।

সরেজমিনে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঘটনাস্থল ঠাকুরটারি ও আশপাশের এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে মুসলমান পরিবারগুলোতে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে মুসলমান পরিবারগুলোতে কোনো পুরুষ সদস্য বাড়িতে নেই। তারা গা ঢাকা দিয়েছেন। আশপাশের মহাদেবপুর, খলেয়া, ফকিরটারী, শলেয়াশাহ, হাজিরবাড়ি, হাজিপুর, লালচাদপুর, হারিয়ালকুঠি, খলেয়ার নুনিটারী, কচুটারি, চওড়াচরি, ফকিরপাড়া হেরিদেবপুরের ফকিরপাড়া, গঞ্জিপুর, তারাগঞ্জের ইকরচালি ইউনিয়নের হাজারঝার, আলোয়াকুড়ি, শলেয়াশাহ, মমিনপুর, ময়েরজপুর, পাগলাপীর, নদীরপর, সেন্টারের হাট, মুনসির হাটসহ গ্রামের মুসলমান পরিবারের পুরুষ সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছেন। বাড়িতে শুধু মহিলা সদস্যরা আছেন।

মহিলা সদস্যরা জানান, পুলিশ সারা রাত গ্রামে গ্রামে ঘুরেছে। দিনেও ঘুরছে। যাকেই পাচ্ছে তাকেই ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ভয়ে আমাদের পুরুষ অভিভাবকরা পালিয়ে গেছেন। তারা কোথায় গেছেন, তা আমরা কেউ জানি না।

শলেয়াশাহ বাজরে গিয়ে দেখা গেল চায়ের দোকান, একটি ফ্লেক্সিলোডের ও ওষুধের দোকান ছাড়া প্রায় সব দোকান বন্ধ। ফ্লেক্সিলোড ও ওষুধের দোকান খোলা থাকলেও তাতে লোকজনে নেই। পাশে দাঁড়াতেই একজন এসে বললেন, ভাইয়ের কি ফ্লেক্সি লোড লাগবে?

তখন পরিচয় দিলে নায়েব আলী নামের ওই দোকানি দোকানে ঢুকে ফ্লেক্সি দিয়ে বললেন, দোষ করে কারা, আর দোষ হয় কার? আমরা ভাই আতঙ্কে আছি। কখন যে আমাদেরকে ধরে নিয়ে যায়। রাতে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা লোককেও ধরে নিয়ে গেছে। অনেকেই আজকে আতঙ্কে দোকানই খোলেনি। আমরা দোকান খুললেও বেচাবিক্রি নেই। আমরা আতঙ্কে আছি।

সরেজমিনে পাগলীপর বন্দর, গঞ্জিপুর বাজার, মমিনপুরবাজারসহ আশপাশের হাটবাজারগুলোতে দেখা গেলে মানুষজনের উপস্থিতি খুবই কম। অনেক দোকানপাট বন্ধ আছে আতঙ্কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*